প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৮ (সোমবার)
হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ছবি : ওয়ানটিভি

লিটার প্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করে জ্বালানী তেলের দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। গত রবিবার এক প্রজ্ঞাপনে 

নতুন দাম অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। কেরোসিন  ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। হঠাৎ করে জ্বালানী তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধিতে সারা দেশের মতো প্রভাব পড়েছে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে। জেলার প্রতিটি পাম্পে গ্রাহকদের ভীর ছিলো কম। সরকারের ৭ মাসের ব্যবধানে পেট্টল, অকটেন,ডিজেলসহ সবধরণের জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তেল সংগ্রহ করতে আসা লোকজন। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ তেলের দাম বৃদ্ধিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। জ্বালানী তেলের অতিরিক্ত মূল্যে বিপাকে পড়েছেন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক, পরিবহন নির্ভর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীরা। এছাড়াও আমন মৌসুমে কৃষি যন্ত্রপাতি জ্বালানী তেলের ব্যবহারকারীরা পড়েছেন বিরম্ভনায়। 

পরিবহন ব্যায় ও কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিরসহ ব্যবসায়ি ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্টরা।

এই অবস্থায় তেলের দাম সাধারণের ক্ষয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষজনের।

রাকিব নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আরএফএলের বিক্রেতা প্রতিনিধি বলেন, আমি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মাল ডেলিভারি দেই। আমাকে প্রতিদিন গড়ে ১০০-১২০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয়। হঠাৎ করে লিটার প্রতি পেট্টল ২০ টাকা বাড়ায় সম্যায় পড়েছে। কোম্পানী আমাদের যে লাইন খরচ দেয় তা নির্দিষ্ট। সরকারের তেলের দাম বাড়িয়েছে কিন্তু কোম্পানিতো আমাদের বেতন বাড়াবে না। 

ট্রাক চালক আলমগীর হোসেন বলেন, পাম্পে এসে শুনি ডিজেলের দাম বেড়েছে। এমনিতেই তেলের দাম বাড়তি থাকায় গাড়ি চালাতে সমস্যায়। এখন আবার দাম বেড়েছে। এভাবে হলেত পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকর পড়তে হবে। গাড়ি চালিয়ে পড়তায় না পড়লে গাড়ি চালানোই ছেড়ে দিতে হবে।

আওলাদ হোসাইন নামের এক ব্যবসায়ি বলেন,তেলের দাম বাড়ায় আমাদের ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে পর পর দাম বাড়ানোটা সাধারণ মানুষদের জন্য সুখকর নয়। তেলের কারনে সব কিছুর দাম বেড়ে যাবে। মানুষের নাভিশ্বাস বাড়ছে। আমরা চাই সরকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সহনসীল পর্যায়ে তেলের দাম রাখেন।

উল্লেখ, গত ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। একই সময়ে কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা এবং অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়। পরে জুনে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রথম দিক পর্যন্ত এসব জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত ছিল।