প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৩৬ (সোমবার)
চারলেন প্রকল্পের মানসম্মত কাজ ও সময়মতো শেষের নির্দেশ এমপি কয়ছরের

ছবি : ওয়ান টিভি

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের চার লেনে উন্নীতকরণের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজের কাঁচামাল বালু, পাথর ও রডের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্মাণ কাজে অভিযোগ উঠার পর সরজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। কাজের গুনগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন সংসদ সদস্য। 

জানা গেছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দীর্ঘ ২ কিলোমিটার চারলেন উন্নীত করতে প্রকল্পটির জন্য ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ২৫২ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি আগামী ২০২৭ সালের জুনে প্রকল্পের শেষ হওয়ার কথা। চারলেন প্রকল্পের শুরুতেই নানা নির্মাণ কাজের নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ি বড় দানার বালু ব্যবহার করা থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে চিকন বালি, ঢালাই কাজে মাটিযুক্ত মানহীন পাথর ব্যবহার,রডের পরিমাণ ও মান নিয়ে অভিযোগ উঠে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তাছাড়া জনগরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে নজরদারী ও মমনিটরিং নিয়ে উদাসীনতায় অভিযোগ উঠে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। 

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল কাজের মান নিয়ে অভিযোগ করলে সাময়িকভাবে কাজ স্তগিত রাখে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। 

এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টম্বর প্রকল্প এলাকায় যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। সড়ক ও জনপথ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা,ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সচেতন মহলের উপস্থিতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে সংসদ সদস্য বলেন, চার লেন প্রকল্পের নির্মাণ কাজে অনিয়মের সুযোগ নেই। যে সকল অভিযোগ এসেছে তা পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তাঁর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারকে দায় নিতে হবে। আমরা চাই টেকসই উন্নয়ন। এক্ষেত্রে আমার বিশ্বাস এলাকাবাসী সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। তবে শিডিউল অনুযায়ি কাজ করতে হবে। মানের সাথে কোনো আপোষ করার সুযোগ নেই।

এসময় সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেট সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আহাদ উল্লাহ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, শান্তিগঞ্জের সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে পরিবর্তন করা হবে। যে সকল অভিযোগ হয়েছে তা গুরুত্বসহকারে নিয়ে সঠিক নিয়মে কাজ করতে হবে। নিয়মিতই কাজ তদারকি করা হবে বলে জানান তিনি।