প্রকাশিত : ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৮ (সোমবার)
ধোপাজান চলতি নদীতে বালুর ‘রাতের কারবার’, প্রশ্নের মুখে সিসি ক্যামেরার নজরদারি

ছবি : সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের অন্যতম পাথর মিশ্রিত বালুমহাল ধোপাজান চলতি নদীতে বালু লুট প্রতিরোধ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে নদীর মোহনায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে পুলিশ। ক্যামেরা স্থাপনের পরও গত কয়েকদিন ধরে সিসি ক্যামেরার নজরদারি উপেক্ষা করে বালু লুটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের শেষ দিকে ও বিভিন্ন সময় ধোপাজান চলতি নদী দিয়ে একাধিক বালুভর্তি বাল্কহেড ও নৌযান বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। এতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও পুলিশের নজরদারি সত্ত্বেও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কি না-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ধোপাজান চলতি নদী থেকে বালু লুটের অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

সরজমিন অনুসন্ধান ও ধোপাজান চলতি নদীর দুই তীরের বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে প্রতিদিন অসংখ্য বাল্কহেড ও নৌযান ধোপাজান চলতি নদী দিয়ে ডলুরা সীমান্তে প্রবেশ করছে। সীমান্ত এলাকায় ড্রেজারের সাহায্যে বালু উত্তোলন করে লোড করা হয় এসব নৌযান। রাতের শেষ দিকে সুকৌশলে নদী পথ দিয়ে সুরমা নদী নিয়ে এসে পারচার করা হচ্ছে অন্যত্র।

সূত্র বলছে,বালু লুটের সাথে ডলুরা,খাইয়ার গাঁও, মনিপুরহাটিসহ নদীর তীরবর্তী এলাকায় একাধিক প্রভাবশালী জড়িত। যার নেপথ্য সরকার দলের কতিপয় নেতার সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছে সূত্র। চলতির মোহনায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে মেনেজ করে বালুভর্তি নৌযান বের করে আনছে অদৃশ্য এই শক্তিটি। বেশ কিছুদিন ধরে প্রভাবকাটিয়ে বালু লুট করে থাকলেও চক্রটির ভয়ে মুখ খুলতে চান কেউ।

সরজমিনে ধোপাজান চলতি গিয়ে দেখা যায়,সীমান্ত এলাকার নদীর দুই তীরে ছোট বড় অসংখ্য স্টিলের নৌকা ভর্তি বালু। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, এসব বালুবোজাই নৌযান রাতে বের কোনো এক সময় বের করা হয়। বালু বোজাই নৌযানের মালিকের নাম জানতে চাইলে কেউই এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে ধোপানজান চলতি নদীতে সিসি ক্যামেরা উপেক্ষা করে বালু লুটের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকেই।

মানইনুল হক খান নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লেখেন,'ধোপাজান নদীতে এখন চলছে ড্রেজার মেশিনের তাণ্ডবলীলা। আবারও বালি লুটপাটের মহোৎসব। দেদারসে লোড হচ্ছে বাল্কহেড নৌকা।'

তার অপর একটি পোস্টে সুজন মাহমুদ লিখেছেন'এই সিসি ক্যামেরা লোক দেখানোর জন্য। আর ফেসবুক গরম করার জন্য।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আব্দুস শহীদ তাঁর ফেইসবুকে লিখেছেন 'আজ সন্ধ্যার পর ধোপাজান নদীতে ৫০ থেকে ৬০ টি খালি নৌকা ডুকছে'।

তবে বালু লুটের ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন, এসব গুজব। সিসি ক্যামেরা উপেক্ষা করে বালু লুট হচ্ছে এটি সত্য নয়। আমরা দিন রাত সিসি ক্যামেরা দিয়ে নদী নজরদারি করছি।  সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পর বালু লুট একেবারেই বন্ধ।

উল্লেখ্য, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শেষ সীমানা ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমেছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডলুরা চলতি নদী। তার প্রবেশ মুখে জেলার একমাত্র বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারি ধোপাজান। স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা আর পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে ২০১৮ সালে কোয়ারি থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে আদেশ দেন আদালত। কয়েক বছর বালু উত্তোলন বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শুরু হয় হরিলুট। কয়েক দফায় লুটপাটে কয়েকশ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয় সরকার। এ সময় লুট বন্ধ না করে উল্টো বিভিন্ন অভিযোগে প্রত্যাহার হন তৎকালীন এসপি আনোয়ার হোসেন। এরপর প্রশাসন তৎপর হলে ফের বন্ধ হয় বালু উত্তোলন।

 

ওয়ান টিভি / মনোয়ার চৌধুরী