ছবিঃ ওয়ান টিভি
ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুক্রবার শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। মহালয়ার চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তার পর এখন সুনামগঞ্জের মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় এবার ৪৪৬টি পূজামণ্ডপে উদযাপিত হচ্ছে দুর্গোৎসব। এর মধ্যে জেলার প্রায় ১২০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ৪৪টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়ন।
বিশেষ করে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিজিবির পাশাপাশি মাঠে রয়েছে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে পাহাড়ি নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পূজার উৎসব পেয়েছে সম্প্রীতির অনন্য রূপ। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতাও বাড়িয়ে তুলেছে পারস্পরিক সৌহার্দ্য। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
হাজং উপজাতির একজন জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা চিনাকান্দি এলাকার লক্ষী হাজং। তিনি ওয়ান টিভি-কে বলেন, আমরা এখানে অনেক বছর ধরে পাহাড়ি বাঙ্গালীরা মিলে মিশে পূজা উদযাপন করি। আমরা শান্তি ও মনোরম পরিবেশ পূজা করতে বিজিবি পাশে থাকে। আমাদের নিরাপত্তার জন্যে পূজায় বাড়তি চেষ্টা করছেন। আমরা আশাবাদী সব সময় এভাবে সবার সহযোগিতায় আমরা ধর্ম পালন করতে পারবো।
একেই গ্রামের আরেকজন লাবনী বিশ্বাস বলেন, আমরা একদম মেঘালয়ের কাছাকাছি বসবাস করি, আমাদের সব কিছুই সীমান্তের কাছে। এখানে অনেক পূর্ব থেকেই পূজা হয়, বিজিবি পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা অন্যান্য জায়গার চেয়ে একটু বেশি আনন্দের সাথে পূজা করতে পারি এটাই আমাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া।
তিনি আরও আমরা হিন্দু মুসলিম এক সাথে আনন্দ উৎসব করি, কারো সাথে কারো কোনো ঝামেলা নেই। আমরা সকালে আমরা আমরা পূজা আর সন্ধ্যায় তাদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠান করি। পূজা আমাদের হলেও উৎসব আনন্দ সবার আমরা এভাবেই চলছি। মা দুর্গার আশির্বাদে বর্ডার এলাকায়ও আমরা অনেক ভালো আছি।
বছর ঘুরে দুর্গোৎসবের আনন্দে একসঙ্গে হয়েছেন আত্মীয়স্বজন। পরিবারের সবার সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে খুশি শিশুরাও। সুশ্মিতা হাজং নামের এক শিশু বলেন, পূজা এলে আমাদের সারা বছরের জমিয়ে রাখা আনন্দ আত্মীয় স্বজনের সাথে কাটিয়ে নেই। আমাদের খুবই ভালো লাগে।
রঙিন আলোকসজ্জা, নান্দনিক সাজসজ্জা আর গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় সীমান্তের পূজামণ্ডপগুলো সাজিয়েছেন আয়োজকরা। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন ও উৎসবের কথা বলছেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা।
দেবাশীষ নামের পূজা উদযাপনের কমিটির সদস্য বলেন, আমরা পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করায় অন্যান্যের চেয়ে অনেক কিছু ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান করি। তবে আমাদের ধর্ম সনাতনী আমরা ধর্মী। নীতিরিতি মেনেই পূজা আয়োজন করি। মা দুর্গার জন্যে আমরা এবার নানাভাবে নতুনত্ব এনে সাজিয়েছি। সবার ভালো লাগবে ও আমাদের কল্যাণ হবে বলে আশাবাদী।
সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, সুনামগঞ্জে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার ৪২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করেছি। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি ও সার্বক্ষণিক টহল পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে স্থাপন করা হয়েছে একটি বেইস ক্যাম্প। সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ ও যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, পূজামণ্ডপ কমিটি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি।