https://www.onetv24.com/

1327

one-tv-special

ওয়ান টিভি স্পেশাল

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বহিরাগতদের বাড়ছে দৌরাত্ম্য , অপচিকিৎসার ঝুঁকি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৪৫
বিশেষ প্রতিনিধি

ছবিঃ ওয়ান টিভি

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে বেড়েছে বহিরাগতদের উৎপাত। স্থানীয় কিছু যুবক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে প্রবেশ করে কর্তব্যরত ডাক্তার,ব্রাদার্সদের সাথে প্রভাব দেখিয়ে জোরপূর্বক রোগীদের শরীরে ইনজেকশন পুশ, কাঁটাছেড়ার সেলাইসহ চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে কোনো ধরনের চিকিৎসা বিদ্যা ছাড়া দু্র্ঘটনায় আক্রান্ত রোগী ও সংবেদনশীল রোগে অপেশাদার ব্যক্তিরা চিকিৎসার সাথে যুক্ত থাকায় সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর স্বজনরা। চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ত্রুটিপূর্ণ সেবা দিয়ে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে। এছাড়াও রোগী বাগিয়ে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে টাকা পাঠিয়ে অসৎ উপায়ে টাকা উপার্জন করছে চক্রের সদস্যরা।।
সরজমিনে বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত এক বয়স্ক রোগীর কাটা স্থানে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশের পাশাপাশি সুঁই সোতা দিয়ে কাঁটা স্থান সেলাই করছেন সাব্বীর নামের এক যুবক। কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও আনসারের সামনেই সংবেদনশীল চিকিৎসা সেবা দিলেও সাব্বিরের নেই কোনো চিকিৎসা বিদ্যা। সাব্বির নিজেকে হাসপাতালের আউটসোর্সিংকর্মী দাবি করলেও বাস্তবে সত্যতা মেলেনি। 

জানা গেছে সাব্বিরের বাড়ির হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী হাসননগর এলাকায়। সাব্বির , জাহির আলী, মিজান,জমিরুল,রবিন, রুমনসহ একাধিক যুবক এই চক্রটির সাথে যুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্ভরযোগ্য সূত্র। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে দিনের পর দিন এমন অপচিকিৎসা চালিয়ে অসৎ উপায়ে টাকা উপার্জন করে আসলেও কর্তৃপক্ষ যেনো দেখেও না দেখার বান করছেন।

 হাসপাতালে স্থানীয় একটি চক্রের প্রভাবের কথা স্বীকার করেন আবাসিক অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হাসপাতাল প্রশাসনতো রাতে থাকেন না। তখন মেডিকেল অফিসার ও নার্সরা সেবা দিয়ে থাকেন। কর্তব্যরতদের বেশি ভাগ অন্য জেলার মানুষ। তাই তাদের সাথে প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় কিছু সুযোগ নিয়ে থাকে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করেছি। আমরা চাই হাসপাতাল বহিরাগত মুক্ত থাকুক।

এদিকে শুক্রবার রাতে হাসপাতাল অনাধিকার প্রবেশ ও চিকিৎসা কাজে হস্তক্ষেপ করার দায়ে জমিরুল ইসলাম নামের এক দালালকে আটক করে হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলায় দায়িত্বে থাকা আনসার। দালাল বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে আনসারের তৎপরতা বৃদ্ধির কথা জানিয়ে জেলা আনসার কমান্ডার মোরশেদা খানম বলেন, এক্ষেত্রে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দালাল ও বহিরাগতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের ড্রেসাপ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। ড্রেসাপের বাহিরে কেউ সেবা দিতে চাইলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, বহিরাগতের উৎপাতে আমরা বিরক্ত। এটি বন্ধো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সাংসদ নুরুল ইসলাম স্যার সম্প্রতি হাসপাতাল সরজমিন পরিদর্শন করেছেন। তিনি হাসপাতালের শৃংখলা ফেরাতে আন্তরিক। আমরা হাসপাতাল দাযিত্বরতদের কমন ড্রেসের ব্যবস্থা করছি। আশা করছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বহিরাগত চিহ্নত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।