https://www.onetv24.com/

1318

one-tv-special

ওয়ান টিভি স্পেশাল

প্রশাসনের নাখের ডগায় সড়কপথে লুট হচ্ছে বালু, পাল্টে যাচ্ছে জমির মানচিত্র

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৪১
বিশেষ প্রতিবেদক

ছবিঃ ওয়ান টিভি

প্রশাসনের নাখের ডগায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে রাতদিন সমান তালে সড়কপথে লুট হচ্ছে ইজারাবিহীন নদী,খাল ও ছড়ার বালু। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করছে বালু লুট চক্রটি। বালু লুটের কারনে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানচিত্র। ভাঙ্গনের কবলে ঘরবাড়ি,ফসলি জমিসহ সড়ক পথ। এদিকে বালুলুটের চিত্র ধারণ করতে গিয়ে মবের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকসহ প্রতিবাদকারী লোকজন। সড়ক পথ বালুলুটের বিষয়টি ওপেনসিক্রেট হলেও তথ্য জানা নেই সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তার।

বিগত কয়েকদিন ধরে সরজমিনে রাত দিন অনুসন্ধান করে দেখা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার  চালবান, বাঘবেড়,মতুরকান্দি,কাপনা, কারেন্টবাজার সড়ক দিয়ে টলি,নসিমন গাড়ি ও পিকআপের রাতদিন লটু হচ্ছে ইজারাবিহীন কাপনা খাল, ধোপাজান নদীর বালু। দিনে সড়ক পথে বালুবোজাই ট্রলির সংখ্যা কম থাকলেও রাতের বেলায় অর্ধশাধিক পরিহনের মাধ্যমে চলে এই বালুলুটের কাজ।

সূত্র বলছে বালুবোজাই এসব পরিবহন প্রতি ২০০ টাকা নিচ্ছে একটি চক্রটি। এই চক্রে প্রধান হিসেবে কারেন্টের বাজার এলাকার রুমেল নামের এক যুবকের সম্পৃক্ত থাকার প্রমান মিলেছে।

কারেন্টের বাজার এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি নাম প্রকাশে অনিচ্ছু শর্তে বলেন, রাতে এই লাইনে অনেক ট্রলি চলে। বালু ভর্তি ট্রলি মতুরকান্দি হয়ে আসে। এর পেছনে একটি চক্র রয়েছে। তারা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকদের সাথে আতাত করে বালু লুট করছে। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করেনা। গত কয়েকদিন আগে বালুবোজাই ট্রলির ভিডিও করায় এক সাংবাদিকের সাথে দূর ব্যবহার করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

পলাশ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে কিছু বালু বোজাই কিছু ট্রলি চলাচল করে। তবে এতে আমাদের কারো সম্পৃক্ত নেই। গত কয়েকদিন আগে একজন ফোন দিয়ে জানিয়েছে এক সাংবাদিক ভিডিও করায় তাকে আটক করা হয়। যতদূর জেনেছি বালু ভিডিও করা তার উপর তারা চড়াও হয়েছে। পরে বিষয়টি বসে শেষ করে দিয়েছি। বালু কারা নিচ্ছে এমন প্রশ্ন তিনি বলেন, এসব বলতে পারবো না। তবে এলাকার কিছু ছেলেপেলেরা টুকটাক বালু আনে বলে জানান তিনি।

অনুসন্ধান বলছে, বিশ্বম্ভপুরে সড়ক পথে বালুলুটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কারেন্টের বাজার এলাকার ব্যবসায়ি রুমেল। যার প্রভাবে মুখ খুলতে চায়না কেউ। 

এ ব্যাপারে রুমেলের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও ফোনকল রিসিভ না করা বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়।

অপরদিকে সরজমিনে উপজেলার সলুবাদ ইউনিয়নের মথুরকান্দি কাপনা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় অবৈধভাবে বালু লুটের হালচিত্র। 

 অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে পরিবর্তন হয়েগেছে জমির ও খালের আকার আকৃতি। হুমকির মুখে গুচ্ছগ্রামের ঘরবাড়ি। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে মথুরকান্দি সড়ক।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন,বালু উত্তোলন ও লুটের সাথে এলাকার মিজানুর, হাফিজ,সুলেমান,শাহজাহান,দীন ইসলাম, বিল্লাল,ইউনুস,সবুজ,জুলহাস,সাদ্দামসহ সংঘব্ধ একটি চক্র। 
 
এদিকে বালু লুট বন্ধে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকিনা আক্তার।  বালু লুট বন্ধ ও জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন,বালু লুটের ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনা সৃষ্টি করছি। যারা বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত ঘটনাস্থলে গেলে তাদের পাওয়া যায়না। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানা তিনি।
 
বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি আহাদ উল্যা ভুইয়া বলেন,বালু লুট হচ্ছে এই তথ্য আমাদের জানা নেই। তবে জড়িতদের তথ্য পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান তিনি।

ওয়ান টিভি / মনোয়ার চৌধুরী